খুলনা, বাংলাদেশ | ২০ মাঘ, ১৪২৯ | ৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩

Breaking News

  বিশ্বজুড়ে ২৪ ঘণ্টায় করোনায় মৃত্যু ১ হাজার ৩০০ জন, আক্রান্ত হয়েছেন ১ লাখ ৯৭ হাজার ১০৪ জন
  আইএমএফের ঋণের ৪৭৬ মিলিয়ন ডলারের প্রথম কিস্তি পেয়েছে বাংলাদেশ

একসঙ্গে ৫৬০টি মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নির্মাণ বিশ্বের ইতিহাসে বিরল

একরামুল হোসেন লিপু

২০১৪ সালের নির্বাচনী ইশতেহারে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় একটি করে উন্নত মসজিদ নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর ২০১৫ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় পরিদর্শনকালে তিনি তার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে বাংলাদেশের প্রতিটি জেলা এবং উপজেলায় একটি করে ৫৬০ টি মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র স্থাপন করার জন্য ৮ হাজার ৭২২ কোটি টাকার একটি প্রকল্প অনুমোদন করেন। যা বিশ্বের ইতিহাসে বিরল।

২০১৭ সালের এপ্রিল হতে ২০২০ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত মেয়াদে প্রথম প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় নির্ধারণ হয়। সংশোধিত অনুমোদিত প্রকল্পের নকশা অনুযায়ী মডেল মসজিদের জন্য ৪০ শতাংশ জায়গা নির্ধারণ করা হয়। জেলা শহর এবং সিটি কর্পোরেশন এলাকায় এ ক্যাটাগরিতে ৪ তলা বিশিষ্ট ৬৯ টি মডেল মসজিদ, উপজেলা পর্যায়ের ৩ তলা বিশিষ্ট ৪৭৫ টি এবং উপকূলীয় এলাকায় ৪ তলা বিশিষ্ট ১৬ টি মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়।

জেলা শহর এবং সিটি করপোরেশন এলাকায় নির্মিত মসজিদগুলোর ফ্লোরের আয়তন হবে ২ হাজার ৩৬০ দশমিক ০৯ বর্গমিটার। উপজেলা পর্যায়ে মসজিদগুলোর ফ্লোরের আয়তন হবে ১ হাজার ৬৮০ দশমিক ১৪০ বর্গমিটার। আর উপকূলীয় এলাকার মসজিদগুলোর ফ্লোরের আয়তন হবে ২ হাজার ৫২ দশমিক ১২ বর্গমিটার। সারাদেশে নির্মিত এ সকল মসজিদগুলোতে ৪ লক্ষ ৯৮ হাজার ২০০ জন পুরুষ এবং ৩১ হাজার ৪০০ নারী মুসল্লী নামাজ আদায় করতে পারবেন।

ধর্ম মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ ইসলামিক ফাউন্ডেশন’র তত্ত্বাবধানে পরিচালিত ইসলাম ধর্মীয় ইবাদত ও শিক্ষার অনুশীলনের আধুনিক ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান নির্মাণের এটি একটি প্রকল্প। এ প্রকল্পের আওতায় গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়নে ২০২১ সালের ১০ জুন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৫৬০ টি’র মধ্যে প্রথম পর্যায়ের ৫০ টি মডেল মসজিদের উদ্বোধন করেন। আজ সোমবার (১৬ জানুয়ারি) বেলা ১১ টায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভার্চুয়ালি সারাদেশে আরো ৫০ টি মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র উদ্বোধন করবেন।

বিশুদ্ধ ইসলাম প্রচারের পাশাপাশি সামাজিক কর্মকান্ডের কেন্দ্রে পরিণত হবে এই মসজিদগুলো। ইসলামিক ফাউন্ডেশন মসজিদ গুলো পরিচালনা করবে। উপজেলা পর্যায়ে মসজিদে ৯০০ এবং জেলা পর্যায়ে মসজিদগুলোতে ১ হাজার ২০০ মুসল্লী নামাজ আদায় করতে পারবেন। মডেল মসজিদ ও ইসলামী সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে নারী ও পুরুষদের পৃথক ওজু ও নামাজ আদায়ের সুবিধা রাখা হয়েছে। লাইব্রেরী যেখানে থাকবে ইসলামিক বই, থাকবে গবেষণা ও দ্বীনি দাওয়াত কার্যক্রম, পবিত্র কুরআন, হেফজ, শিশুশিক্ষা, অতিথিশালা, বিদেশী পর্যটকদের আবাসন ব্যবস্থা। হজ্ব যাত্রীদের নিবন্ধন ও প্রশিক্ষণ, ইমামদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা সহ আরো অনেক সুবিধা রাখা হয়েছে। ইমাম এবং মুয়াজ্জিনদের আবাসনসহ সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের কর্মকর্তা এবং কর্মচারীদের জন্য অফিসের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

মসজিদগুলোতে ইবাদতের পাশাপাশি আরো অনেক সামাজিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হবে। সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে প্রচারের পাশাপাশি নারীর প্রতি সহিংসতা রোধ ও সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রম নিয়ে সাধারণ মানুষকে সচেতন করা হবে। মসজিদ গুলোর বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো প্রতিবন্ধীদের জন্য নামাজের ব্যবস্থা এবং তাদের মসজিদে প্রবেশের জন্য বিশেষ র‍্যাম থাকবে।
৫৬০ টি মডেল মসজিদ নির্মাণ প্রকল্পে প্রথমাবস্থায় সৌদিআরব অর্থায়নের আগ্রহ প্রকাশ করলেও শেষ পর্যায়ে সরকারি অর্থায়নে এই প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে।




খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

© 2020 khulnagazette all rights reserved

Developed By: Khulna IT, 01711903692

Don`t copy text!