খুলনা, বাংলাদেশ | ৩ ভাদ্র, ১৪২৯ | ১৮ আগস্ট, ২০২২

Breaking News

  গাজীপুরে প্রাইভেটকারের ভেতর থেকে শিক্ষক দম্পতির মরদেহ উদ্ধার
  ২৪ ঘণ্টায় সারা বিশ্বে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন দুই হাজার ১৪ জন ও আক্রান্ত হয়েছেন ৭ লাখ ৫৫ হাজার ৬৯৩ জন

আলোকিত মানুষ ড. মোখলেছুর রহমান ও তাঁর উন্নয়ন ভাবনা

ড. রেজাউল করিম

বাংলাদেশ থেকে প্রতি বছর বহু সংখ্যক শিক্ষার্থী উচ্চ শিক্ষার্থে বিদেশ গমন করেন। এদের বেশির ভাগই স্বউন্নয়নে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। এক্ষেত্রে ব্যতিক্রম ড. মোখলেছুর রহমান। তিনি সূদুর জাপানে বসেও ভাবেন তার দেশের কথা, দেশের মানুষের কথা, জন্মস্থানের কথা এবং নিজের সাধ্যমত চেষ্টা করেন দেশকে, দেশের মানুষকে শিক্ষা, স্বাস্থ্য তথা আর্থিকভাবে এগিয়ে নেবার জন্য। মূলত তিনি একজন শিক্ষা অনুরাগী, মানবতাবাদী, গবেষক ও শিক্ষক।

ড. মোখলেছুর রহমান ১৯৫৫ সালের ১ জুলাই মেহেরপুর জেলার গাংনী উপজেলার তেতুলবাড়িয়া ইউনিয়নের করমদি গ্রামের এক কৃষি পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। গ্রামের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে তিনি শিক্ষা গ্রহণ করেন। ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধ শেষে মেহেরপুর কলেজে ভর্তি হন এবং ছাত্র রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। তিনি ১৯৭৪ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজবিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হন এবং ১৯৮০ সালে এমএ ডিগ্রি সম্পন্ন করে থানা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা হিসাবে যোগদান করেন। এরপর ১৯৮৪ সালে জাপান সরকারের মনবুশো স্কলারশিপ নিয়ে তিনি জাপানের কিউশু বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার্স ইন এডুকেশন এবং পিএইচডি সম্পন্ন করেন। তার পিএইচডি থিসিস শিরোনাম ছিল occupational socialisation proscess for beginning teachers in Bangladesh ।

পরবর্তীতে তিনি জাপান ইউনিভার্সিটি অব ইকোনোমিক্স-এর অর্থনীতি বিভাগে শিক্ষকতা শুরু করেন। সেখানে তিনি সমাজবিজ্ঞান ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ে পাঠদান করতে থাকেন। চাকরির শেষের ৪ বছর তিনি বিভাগীয় প্রধান হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ২০২১ সালের মার্চ মাসে কর্মজীবন থেকে অবসর গ্রহণ করেন এবং একই বছরের এগ্রিল মাস থেকে কেদো (CODO) ইন্টারন্যাশনাল কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে যোগ দেন। বর্তমানে তিনি সেখানেই কর্মরত আছেন।

প্রায় ৩৭ বছর জাপানে আছেন ড. মোখলেছুর রহমান। তিনি নিজ এলাকায় আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে অক্লান্ত কর্মী হিসেবে কাজ করে চলেছেন। তিনি ১৯৮০ দশকের শেষার্ধে নিজ গ্রামে গড়ে তোলেন সন্ধানি নামে একটি সেবাধর্মী সংস্থা। শিক্ষা বিস্তার ও মানোন্নয়নের জন্য তিনি প্রতিষ্ঠা করেছেন করমদি পূর্বপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়, গাংনী উপজেলা সদরে সন্ধানী স্কুল এন্ড কলেজ, নার্সিং ইনস্টিটিউট, করমদি গ্রামে সন্ধানী হাসপাতাল এবং ডায়াগনস্টিক সেন্টার, সেলাই প্রকল্প, ইনফরমেশন সেন্টার, বৃত্তি প্রকল্প প্রভৃতি।

সম্প্রতি তাঁর লেখা একজন মুক্তিযোদ্ধার স্মৃতিকথা প্রকাশিত হয়েছে। আলোকিত এ মানুষটির উন্নয়ন ভাবনা আমাদের জন্য অনুকরণীয় হতে পারে। বাংলাদেশের মত উন্নয়নশীল দেশে তার মত শিক্ষানুরাগী মানুষের বড়ই দরকার।

(ফেসবুক ওয়াল থেকে)

খুলনা গেজেট / আ হ আ




খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

© 2020 khulnagazette all rights reserved

Developed By: Khulna IT, 01711903692