খুলনা, বাংলাদেশ | ২ মাঘ, ১৪২৮ | ১৬ জানুয়ারি, ২০২২

Breaking News

  করোনার সংক্রমণ বাড়লেও এখনও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের সিদ্ধান্ত হয়নি : শিক্ষামন্ত্রী
  করোনার কারণে দুই সপ্তাহ পিছিয়ে ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু অমর একুশে গ্রন্থমেলা

আমনের বাম্পার ফলন, দাম না পাওয়ায় হতাশ কৃষক

পাইকগাছা প্রতিনিধি

পাইকগাছায় ১০ ইউনিয়ন ও পৌরসভায় চলতি আমন মৌসুমে কৃষি বিভাগের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ভালো ফলন হয়েছে বলে জানালেন কৃষকেরা। ধান কাটা ও মাড়াইয়ে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্য মতে, এ বছর আমন মৌসুমে ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ১৭ হাজার ২২০ হেক্টর। উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভায় এ বছর আমন চাষ হয়েছে ১৭ হাজার ২৫৩ হেক্টর জমিতে। অতিরিক্ত ৩৩ হেক্টর জমিতে আমন চাষ হয়েছে।

হরিঢালী ইউনিয়নে ৯৭৫ হেক্টর, কপিলমুনি ইউনিয়নে ৯৬০ হেক্টর, লতা ইউনিয়নে ১০০০ হেক্টর, দেলুটি ইউনিয়নে ৪১৫০ হেক্টর, সোলাদানা ইউনিয়নে ৯৭২ হেক্টর, লস্কর ইউনিয়নে ১২৬০ হেক্টর, গদাইপুর ইউনিয়নে ১২৯০ হেক্টর, চাঁদখালী ইউনিয়নে ২২০০ হেক্টর, গড়ইখালী ইউনিয়নে ২৮৫৬ হেক্টর ও পৌরসভায় ৫০০ হেক্টর জমিতে আমনের আবাদ হয়েছে।

ইতিমধ্যে পাইকগাছায় চলতি আমন মৌসুমে ১ হাজার ২৫ মেট্রিকটন ধান ও চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। যার মধ্যে ৯৫২ মেট্রিকটন ধান এবং ৭৩ মেট্রিকটন চাল ধরা হয়েছে।

সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে ২৭ টাকা কেজি দরে ধান এবং মিলারদের কাছ থেকে ৪০ টাকা কেজি দরে এ চাল সংগ্রহ করা হবে। প্রতি মন ধানের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১০৮০ টাকা। ধান উৎপাদনে সরকারের বেঁধে দেওয়া দামের চেয়ে খরচ বেশি পড়ছে বলে জানিয়েছেন অনেক কৃষক। সে কারণে ধানের ন্যায্য মূল্য না পাওয়ায় হতাশ কৃষকেরা।

উপজেলার গদাইপুর, পুরাইকাটি, তকিয়ার অনেক কৃষক জানিয়েছেন, সরকার ধানের ন্যায্য মূল্যে কৃষকের কাছ থেকে ধান না কিনলে একদিকে কৃষকের লোকসান হবে। অন্যদিকে সরকারের ধান চাল সংগ্রহ বাধাগ্রস্ত হবে।

চাঁদখালী ইউনিয়নের সিরাজুল ইসলাম বলেন, এভাবে ধানের দাম কম থাকলে কৃষকের ব্যাপক ক্ষতি হবে। অনেক কষ্ট করে ধান উৎপাদন করলেও তারা কষ্টের মূল্য পাচ্ছেন না।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, এ বছর বন্যা বা প্রাকৃতিক দুর্যোগ নেই বলেই চলে। এ কারণে ধানের ক্ষতি কম হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় রোগবালাই কম হয়েছে। আর কিছু কিছু জায়গায় পানি সরবরাহের পথ বন্ধ থাকার কারণে জলাবদ্ধতা সৃষ্ট হয়ে কিছু ধানের ক্ষতি হয়েছে। তারপরেও ধানের বাম্পার ফলন হওয়ায় কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে।

খুলনা গেজেট/ এস আই

 




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

© 2020 khulnagazette all rights reserved

Developed By: Khulna IT, 01711903692