বর্ষা মৌসুম শেষ হওয়ার সাথে সাথে কাঁদামাটি শুকিয়ে গেছে। স্তুপকৃত জঞ্জাল ও ড্রেণের বদ্ধ পানি থেকে এডিস মশা জন্ম নিচ্ছে। এ বছরের শুরুতে ডেঙ্গুর প্রকোপ শুরু হয়েছে। দক্ষিণাঞ্চালে জানুয়ারি থেকে গতকাল পর্যন্ত ৪৬ জন এ রোগে আক্রান্ত হয়েছে।
স্বাস্থ্য পরিচালক, খুলনার কার্যালয় সূত্রে, করোনার প্রকোপ থেমে গেছে। নিপাহ নিয়ে আতংকের কোন কারণ নেই। এ বছরের শুরুতেই গতকাল পর্যন্ত দক্ষিণাঞ্চালে ৪৬ জন ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়েছে। আক্রান্ত জেলাগুলো হচ্ছে, খুলনা, বাগেরহাট, যশোর, ঝিনাইদাহ, মাগুরা, নড়াইল ও কুষ্টিয়া। গত বছর বিভাগের ১০ জেলায় ৩ হাজার ৩৫৯ জন এ রোগে আক্রান্ত হয়। রোগীর শীর্ষ তালিকায় রয়েছে যশোর জেলা। গেল বছর সুস্থ হয়ে ঘরে ফেরে ৩ হাজার ২৫০ জন, মারা যায় ১২ জন ও বাকীদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়। এখনও খুলনায় চিকিৎসাধীন রয়েছে ১৫ জন।
গেল বছর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে বাগেরহাট জেলার ফকিরহাট উপজেলার কবির হোসেন, ডালিয়া খাতুন, নড়াইল জেলা সদরের মধু দাস,কালিয়ার শেখ ফায়জুল হক, বাঙালী বিশ্বাস, আমেলা খাতুন, কুষ্টিয়া জেলার ভেড়ামারা উপজেলার রাব্বী হোসেন, বাগেরহাট জেলার কচুয়া উপজেলার ফিরোজা খাতুন, খুলনা নগরীর জোড়া গেটের খাদিজা খাতুন, ফুলতলা উপজেলার নজরুল ইসলাম গাজী ও যশোরের অভয়নগর উপজেলার শিউলী বেগম মারা যায়। পিরোজপুর জেলার নাঈম নামক এক যুবক খুমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়।
কেসিস’র মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক সিটি কর্পোরেশনের সাধারণ সভায় উল্লেখ করেন, নিয়মিত ফগার মেশিন ব্যবহারের ফলে এডিস মশা বংশ বিস্তার করতে পারছে না। নগরীর সব ড্রেণগুলো নিয়মিত পরিষ্কার করা হচ্ছে।
কেসিসির কাউন্সিলর শেখ মোঃ গাউসুল আজম এ সভায় উল্লেখ করেন, নগরীতে ডেঙ্গুর প্রকোপ বৃদ্ধি পেয়েছে। এডিস মশার বিস্তার রোধে ফগার মেশিন ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয়ের উপ-পরিচালক ডা. ফেরদাউসী আক্তার বলেন, ডেঙ্গুর প্রকোপ কিছুটা কমেছে। গত ৯ ফেব্রুয়ারী একজন আক্রান্ত হয়ে খুলনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হয়। বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় আক্রান্তরা দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠছে। তিনি জানান, আতংকের কোন কারণ নেই।
খুলনা গেজেট/এইচ এইচ