খুলনা, বাংলাদেশ | ১ আশ্বিন, ১৪২৮ | ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২১

Breaking News

  ডেঙ্গুতে আরও ২৩৪ জন হাসপাতালে ভর্তি ; ঢাকায় ১৮২
  ইভ্যালির প্রতিষ্ঠাতা রাসেল ও চেয়ারম্যান নাসরিন গ্রেপ্তার, ২১ অক্টোবরের মধ্যে মামলার প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ আদালতের

স্বামী-স্ত্রী’র মধ্যকার আদব (পর্ব : ১০)

মুফতি জুবায়ের হাসান

মুসলিম ব্যক্তি স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যকার পরস্পরের জন্য নির্ধারিত আদব তথা অধিকারসমূহকে স্বীকৃতি প্রদান করবে; কেননা, আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
وَلَهُنَّ مِثْلُ الَّذِي عَلَيْهِنَّ بِالْمَعْرُوفِ وَلِلرِّجَالِ عَلَيْهِنَّ دَرَجَةٌ

আর নারীদের তেমনি ন্যায়সংগত অধিকার আছে, যেমন আছে তাদের উপর পুরুষদের; আর নারীদের উপর পুরুষদের মর্যাদা আছে। -সূরা আল-বাকারা, আয়াত: ২২৮

সুতরাং আল-কুরআনের এ আয়াতটি স্বামী ও স্ত্রী প্রত্যেকের জন্য একের প্রতি অপরের অধিকার নির্ধারণ করে দিয়েছে এবং বিশেষ কিছু কারণে স্বামীকে তার স্ত্রীর ওপর মর্যাদা দেয়া হয়েছে। তাছাড়া রাসূলুল্লাহ ﷺ বিদায় হজ্জের ভাষণে বলেন: জেনে রাখবে, নিশ্চয়ই তোমাদের নারীদের ওপর তোমাদের অধিকার রয়েছে, আর তোমাদের ওপরও তোমাদের নারীদের অধিকার রয়েছে। -সুনান চতুষ্টয়; ইমাম তিরমিযী রহ. হাদিসটিকে সহীহ বলেছেন।

তবে এসব অধিকারের মধ্য থেকে কিছু অধিকার এমন আছে, যা স্বামী ও স্ত্রী উভয়ের মাঝে যৌথভাবে প্রযোজ্য এবং কিছু অধিকার এমন আছে, যা তাদের প্রত্যেকের জন্য পৃথক পৃথকভাবে নির্দিষ্ট; সুতরাং যেসব অধিকার তাদের উভয়ের জন্য যৌথভাবে প্রযোজ্য, সেগুলো হলো:

১. আমানত তথা বিশ্বস্ততা; স্বামী ও স্ত্রী উভয়ের ওপর ওয়াজিব হলো একে অপরের প্রতি বিশ্বস্ত হওয়া; সুতরাং কম হউক বা বেশি, কোনো অবস্থাতেই তারা একে অন্যের খিয়ানত করবে না; কারণ, স্বামী-স্ত্রী একে অপরের অবিচ্ছেদ্য সঙ্গী; অতএব তাদের বিশেষ ও সাধারণ জীবনের প্রতিটি বিষয় ও ক্ষেত্রে পরস্পরের মাঝে বিশ্বস্ততা, কল্যাণ কামনা, সততা ও নিষ্ঠার মত বিষয়গুলো যথাযথভাবে পালন করা জরুরি।

২. ভালোবাসা ও সম্প্রীতি; তারা দীর্ঘ জীবনে একে অপরের জন্য সর্বোচ্চ পরিমাণে নির্ভেজাল ভালোবাসা ও অবারিত সহমর্মিতা প্রদর্শন করবে; কেননা, আল্লাহ তা‘আলা বলেন: আর তাঁর নিদর্শনাবলীর মধ্যে রয়েছে যে, তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের মধ্য থেকে সৃষ্টি করেছেন তোমাদের জোড়া; যাতে তোমরা তাদের কাছে শান্তি পাও এবং সৃজন করেছেন তোমাদের মধ্যে ভালোবাসা ও সহমর্মিতা। -সূরা আর-রূম, আয়াত: ২১

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন: যে ব্যক্তি অনুকম্পা প্রদর্শন করবে না, তার প্রতিও অনুকম্পা প্রদর্শন করা হবে না।

৩. পরস্পরের মাঝে আস্থা, বিশ্বাস ও নির্ভরশীলতা; অর্থাৎ তারা উভয়ে একে অপরের প্রতি আস্থাশীল হবে এবং তার জন্য তার সততা, আন্তরিকতা ও একনিষ্ঠতার ব্যাপারে তার মনে ন্যূনতম সন্দেহের অনুপ্রবেশ ঘটবে না; আল্লাহ তা‘আলা বলেন: মুমিনগণ তো পরস্পর ভাই ভাই। -সূরা আল-হুজুরাত, আয়াত: ১০

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন: তোমাদের কেউ ততক্ষণ পর্যন্ত প্রকৃত মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ না সে তার নিজের জন্য যা পছন্দ করে, তার ভাইয়ের জন্য তা পছন্দ করবে। -বুখারী ও মুসলিম রহ. প্রমুখ।

আর দাম্পত্য বন্ধন উভয়ের মাঝে ঈমানী ভ্রাতৃত্ববোধকে আরও শক্তিশালী ও মজবুত করে দেয়। এ কারণে স্বামী-স্ত্রী অনুভব করে একে অপরের সত্ত্বায় মিশে গিয়ে যেন এক দেহ এক মন; সুতরাং একজন মানুষ কিভাবে তার নিজ সত্ত্বাকে অবিশ্বাস করবে এবং কিভাবে তার নিজের কল্যাণ কামনা করা থেকে বিরত থাকবে? অথবা কিভাবে সে নিজেকে ধোঁকা দিবে ও প্রতারিত করবে?

৪. সার্বজনীন আদব হলো আচার ব্যবহারে কোমল হওয়া, আনন্দময় অবস্থান, সম্মানজনক কথা বলা এবং শ্রদ্ধা ও সম্মান প্রদর্শন করা; আর এটাই হলো সৎভাবে জীবনযাপন করা, যে ব্যাপারে আল্লাহ তা‘আলা কুরআনে নির্দেশ প্রদান করেছেন এবং এটাই হলো কল্যাণ কামনা করা, যার নির্দেশ প্রদান করেছেন রাসূলুল্লাহ ﷺ তাঁর বাণীর মাধ্যমে, তিনি বলেন: তোমরা নারীদের কল্যাণ কামনা কর। এসব হচ্ছে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যকার যৌথ আদব-কায়দা, যেগুলো তারা পরস্পর মেনে চলবে তাদের মধ্যকার দৃঢ় প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন স্বরূপ। তারা উভয়ে এগুলো মেনে চলবে আল্লাহর আনুগত্য করার নিমিত্তে; আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
وَلَا تَنْسَوُا الْفَضْلَ بَيْنَكُمْ إِنَّ اللَّهَ بِمَا تَعْمَلُونَ بَصِيرٌ

আর তোমরা নিজেদের মধ্যে অনুগ্রহের কথা ভুলে যেও না। তোমরা যা কর নিশ্চয় আল্লাহ তা সবিশেষ প্রত্যক্ষকারী। -সূরা আল-বাকারা, আয়াত: ২৩৭

হে আল্লাহ! আপনি সারা দুনিয়ার সকল স্বামী-স্ত্রীর মাঝে আমানত, ভালোবাসা, পরস্পর আস্থা-নির্ভরশীলতা ও কোমল সৌহার্দপূর্ণ সম্পর্ক স্থাপন করে দিন। হে জগতসমূহের প্রতিপালক! আমাদের ফরিয়াদ কবুল করুন। আমীন।

 

খুলনা গেজেট/এনএম




খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

© 2020 khulnagazette all rights reserved

Developed By: Khulna IT, 01711903692